মানুষটা কালীনাথ বড় চুপচাপ। তবে কাজের লোক। ছোট-বড় যে কোন কাজ বড় মনোযোগের সঙ্গে করে। বড় কাজ করার সুযোগ অবশ্য তার জীবনে আসেনি কখনো। 'চিন্তাহরণ মেডিকেল স্টোর'-এ ওষুধ বেচে আর মিকশ্চার তৈরী করেই তার তিরিশ বছর কেটে গেলো, ২৫ বছর বয়সে ঢুকেছিলো এখানে, এখন চুল দাড়ি পেকেছে, চামড়া কুঁচকেছে, গাল মুখ ভেঙেছে, কপাল চওড়া করে টাক পড়েছে, মানুষটার স্বভাব বদলায়নি। আগে ধুতির ওপর হাতে-কাচা হাফশার্ট পরতো, ৬৪'র দাঙ্গার পর ধুতি ছেড়েছে, এখন তার নিত্যদিনের পোশাক শার্ট পাজামা।
আমি যেদিন মারা গেলাম সেদিন ছিল
তোমাদের উৎসবের দিন। আমার মরার জন্য উৎসব নয়। কারণ আমি মানুষটা ছিলাম অতি সাধারণ। আমাকে
নিয়ে হইচই বা গভীর দুঃখপ্রকাশ কোনোটাই কারো মানায় না।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: অন্যঘরে অন্যস্বর (১৯৭৬), খোঁয়ারি (১৯৮২), দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫), চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭), দোজখের ওম (১৯৮৯), খোয়াবনামা ১৯৯৬), সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।
দক্ষিণ মৈশুন্দি, ভূতের গলির লোকেরা পুনরায় এক জটিলতার ভিতর পড়ে এবং জোড়পুল ও পদ্মনিধি লেনের, ওয়ারি ও বনগ্রামের, নারিন্দা ও দয়াগঞ্জের লোকেরা তাদের এই সঙ্কটের কথা শুনতে পায়; তারা, ভূতের গলির লোকেরা বলে:
হারুকি মুরাকামি বাংলাভাষায় পরিচিত হইতে শুরু করছেন। নরমালি এইরকমের ঘটনাটা ঘটে কোন লেখকের বুকার বা নোবেল পাওয়ার পরে; যখন সাহিত্য-সম্পাদকরা অনুবাদকদের তাগদা দিতে থাকেন আপডেটেড হওয়ার লাইগা বা লেখক-অনুবাদকরা আপডেটেড হওয়া তাগিদটা জোরেশোরে ফিল করতে থাকেন! মুরাকামি কোন পুরস্কার ছাড়া তার জনপ্রিয়তা দিয়াই এই চাপটা দিতে পারতেছেন মনেহয়।
মুরাকামির সবচে রিসেন্ট গল্প ইয়েসটারডে’র ইংরেজি অনুবাদ ছাপা হইছিলো দ্য নিউইয়র্কারে জুন ৯, ২০১৪ তে। বাংলায় অনুবাদ হইতে তাও দুইমাস সময় লাইগা গেলো! তারপরও যে হইলো, এর কৃতিত্ব পুরাটাই বাংলা অনুবাদকের।
[জেমস জয়েস
(১৮৮৪-১৯৪১)-এর জন্ম আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। জীবন ও
জীবিকার তাগিদে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ আয়ারল্যান্ডের বাইরে কাটলেও
তাঁর প্রায় প্রতিটা লেখায় ডাবলিন শহরের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো। লেখক হিসেবে
সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে বেশ কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়েছে। শুরুর
দিকে কোনো প্রকাশনীই তাঁর বই প্রকাশ করতে আগ্রহ দেখায়নি। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়
তাঁর গল্প সংকলন ‘ডাবলিনার্স’।